৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটারের মালিক ইলন মাস্ক
সব জল্পনা কল্পনা এবং দরদামের পর টুইটার কিনলেন ইলন মাস্ক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলো শক্তিশালী করা, টুইটারকে আরও বেশি উদার, উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি কিনে নিয়েছেন এই শতকোটিপতি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
এরই মধ্যে সংস্থার সব কর্মীর কাছে একটি মেইল করে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়াল। ২৫ এপ্রিল সোমবার পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ইলন মাস্কের টুইটার কেনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। মাসখানেক আগে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালু করার বিষয়ে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মাস্ক। যদিও সেসময় টুইটার কেনার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি। বরং টুইটারের সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কিছুদিন আগে টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন ইলন মাস্ক। সেই থেকেই গুঞ্জন ছিল তিনি পুরো টুইটার কিনে নেবেন। এবার সেই গুঞ্জন সত্যি হয়েছে। যদিও এর আগে মাস্কের টুইটারের সম্পূর্ণ মালিকানা কিনে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল এর পরিচালনা পর্ষদ।
এদিকে টুইটার বিক্রির খবরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম এরই মধ্যে ৪ শতাংশ বেড়ে ৫০ দশমিক ৬২ ডলারহয়েছে। তবে ইলন মাস্ক শেয়ারপ্রতি ৫৪ দশমিক ২০ ডলার দিতে চেয়েছেন।
তবে ইলন মাস্কের কাছে বিক্রি ঠেকাতে ‘পয়জন পিল’ নামে একধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয় টুইটার কর্তৃপক্ষ, যাতে প্রতিষ্ঠানটির দাম আরও বেশি হয়ে পড়ে। কিন্তু শেষমেষ তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে জানা গেছে।
একসময় গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, টুইটার কেনার মতো যথেষ্ট নগদ অর্থ মাস্কের কাছে নেই। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, টুইটার কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ এরই মধ্যে জোগাড় করে ফেলেছেন বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এই কেনাবেচা নিয়ে টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়াল বলেন, সারা বিশ্বে টুইটারের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমাদের টিমের জন্য আমার গর্ব হয়।
এর সঙ্গে টুইটারের ইনডিপেনডেন্ট, বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রেট টেলর বলেন, ইলন মাস্কের যে প্রস্তাব ছিল তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছেন টুইটারের স্টেক হোল্ডারদের আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ মিলবে।
আগামীদিনে বড় কী পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে এখনোই বিস্তারিত কিছু বলেননি ইলন মাস্ক। তবে তার কথায় ইঙ্গিত কন্টেন্ট মডারেশনে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবর্তন শুরু হয়ে হয়তো বাক স্বাধীনতা থেকেই। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ধারণা আরও জোড়ালো হয়েছে, এবিষয়ে ইলনমাস্কের একটি টুইট থেকে। সেখানে তিনি একটি স্ক্রিনশটসহ টুইট করেন। যেখানে শুধুমাত্র বাক স্বাধীনতার উপর কথা বলা হয়েছে। ওই ইমেজের সঙ্গে শুধুমাত্র ‘ইয়েস’ লিখে পোস্ট করেন মাস্ক।